আজমিরীগঞ্জ( হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
আজমিরীগঞ্জের কৃষক যারা ঋন করে বোরো আবাদ করেছেন তাঁরা এখন ভেবে পাচ্ছেন না, কি করবেন। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই বর্গা চাষি। তাঁরা এখন দিশেহারা। তাদের মধ্যে কেউ করেছেন এনজিও থেকে ঋন। কেউ নিয়েছেন ব্যক্তি মানুষের কাছ থেকে।
কথা ছিল, ফসল তোলার পর নিজে খাবেন, বিয়ে শাদী লাগলে দেবেন, খরচ করবেন কিন্তু বিধিবাম।
হবিগঞ্জের হাওর এলাকা বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে জমির পর জমি। একটানা মাসের অধিক বৃষ্টির পানিতে ভরে যায় বিলঝিল ও হাওর। সেই সাথে অনেক বিলের পানি নিষ্কাশন হয়নি।পলি পড়ে পানি নিস্কাশনের জায়গা বদ্ধ হয়ে গেছে। কোথাও বা নিস্কাশনের জায়গা দখল করে বাড়িঘর তৈরি করা হয়েছে। কোথাও বা অপরিকল্পিত বাধ ও রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। তাই বৃষ্টির পানিতে চলতি বছর বন্যা হয়ে গেছে হাওর এলাকায়।
কৃষি বিভাগ আজমিরীগঞ্জে ১৩৭০হেক্টর বোরোধানের জমি তলিয়ে গেছে বলে জানালে ও এলাকাবাসী বলছেন, অর্ধেকের বেশি তলিয়ে গেছে। যেটুকু আছে তাও রোদের অভাবে শুকানো যাচ্ছে না।
উপজেলার জলসুখা ইউনিয়নের মধ্য পাড়া গ্রামের মতিউর রহমান ( ৬০) দুই একর ধান লাগিয়েছিলেন জলসুখার বিভিন্ন হাওরে। এতে ঋন করেছিলেন ৫০ হাজার টাকা। কিছুদিনের ঝড়,শিলাবৃষ্টি, পোকার আক্রমন,সর্বশেষ বৃষ্টির পানি যখন তাঁর জমি জলমগ্ন হয়ে পড়ে সম্প্রতি তার স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে সিলেট ইউমেন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফিরেছেন। তিনি ইউমেন হাসপাতালের নবম তলায় ৯১ নম্বর ওয়ার্ডে ৭ নম্বর কেবিনে ভর্তি ছিলেন।শনিবার (০২/০৫/২৬) তিনি বাসায় আসেন।আত্মীয়স্বজনরা ধারনা করছেন,হয়তো ফসল নষ্ট হওয়ার খবর পেয়ে, ঋনের চিন্তায় স্ট্রোক করেন।
উপজেলার আনন্দপুর গ্রামের গেদা মিয়ার ছেলে রাইদুল মিয়া (৩০) জানান, তিনি এক একর বোরো জমি চাষ করেছিলেন বর্গা নিয়ে। এতে একটি এনজিও থেকে ৩০ হাজার টাকা ঋন করে জমিতে খরচ করেছেন। তাঁর এ জমি সম্পুর্ন তলিয়ে গেছে। এক ছটাক ধান ঘরে তোলতে পারেননি সে। এক ছেলে,এক মেয়ে, স্ত্রী ও নিজে কি খাবেন আর ঋন কি ভাবে দেবেন ভেবে দিশেহারা।
এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,অনেক বর্গা কৃষক আছেন যারা ঋন করে চাষাবাদ করেছেন।
আজমিরীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রহুল আমিন জানান, যারা একেবারেই কোন ধান পাননি তাঁদের আলাদা জরিপ হবে।আমরা চেষ্টা করবো তাদেরকে অগ্রাধিকার দিয়ে সহায়তা করার।
সূত্র: বার্তা আপডেট ২৪

মতামতঃ-ক্রমানুসারে
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন