ঢাকা

জোঁকের উপদ্রব ও ধান কাটার শ্রমিক সংকটে বিপাকে আজমিরীগঞ্জের হাওর কৃষক -বার্তা আপডেট ২৪

barta Update 24:

প্রকাশিতঃ

Shares
আজমিরীগঞ্জ হাওরে পানিতে দাঁড়িয়ে ধান কাটছেন কৃষক, চারদিকে জোঁকের উপদ্রব
হাওরে জোঁকের উপদ্রব- বার্তা আডপেডেট ২৪

আজমিরীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:  কৃষকের কপালে সুখ নেই।একটার পর একটা সমস্যা সামনে আসছে। এবার হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ হাওরে দেখা দিয়েছে  সমানে   জোঁকের কামড়ানো আর  ধানকাটার শ্রমিকের অভাব।

উপজেলার কাকাইলছেও চিলার আগ বিল,আনন্দ পুরের মাকরদী, কমলগঞ্জের চরে বোরোধানের জমিতে জোঁকে কিলবিল করছে।কৃষক জমিতে নামলেই কামড়াতে শুরু করে।কেউ কেউ ভয়ে পানিতে নামে না। অনেকেই কামড় নিয়েই ধান কাটছেন।কৃষকেরা জানিয়েছেন, শিলাবৃষ্টি হলে পানিতে জোঁক বেশি হয়।চলতি মৌসুমে শিলাবৃষ্টি হয়েছে তাই এ বছর হাওরের পানিতে জোঁক বেশি।কোন কোন কৃষক জোঁকের ভয়ে মোটাকাপড় ও প্যান্ট  বেধে শরীরে ধান কাটতে নামেন।

এদিকে হাওরাঞ্চলে ধান কাটার শ্রমিকের অভাব দেখা দিয়েছে। কয়েক বছর আগে রোবো ধান কাটার সময়ে পাবনা সিরাজ গঞ্জসহ নানা জেলা থেকে ধান কাটার শ্রমিক আসতো হাওর এলাকায় কিন্তু কয়েক বছর ধরে তাঁরা আসেন না। তাদের এলাকায় মানুষ কাজ পান বা শহরে চলে যান।

তাই হাওর এলাকায় ধান কাটার শ্রমিকের অভাব।যাই আছে স্থানীয় শ্রমিকরা ধান কাটেন।তবে  শ্রমের মুল্য অতিরিক্ত। উপজেলার রসুলপুর গ্রামের সিদ্দিক মেম্বারের ছেলে আসিফ ইকবাল  জানান, চার হাজার ২শ’ টাকা প্রতি কের (২৮শতাংশ) জমি ধান কাঁটার শ্রমিককে দিচ্ছেন।তবে জমির ধরন বুঝে কাটার মুল্য নির্ধারিত হয়।কোন কোন জমি আড়াই হাজার টাকায় ও কাঁটা হয়।

ইকবাল মিয়া জানান, এবার কৃষকের অনেক ক্ষতি হবে।তবে কয়েক বছর ধরে ধান কাটার মেশিন আসে (হারভেষ্টিং)এলাকায়।  একর প্রতি  ধান দুই পাঁচ হাজার টাকা দিতে হতো।কিন্তু চলতি বছর হারভেস্টার মেশিন পানির জন্য জমিতে চালানো যাচ্ছে না।জমিতে নৌকা  চালানোর সুবিধাও কম, প্রয়োজনীয় নৌকাও পাওয়া যায় না।  তাই চারদিকে  হাওরের কৃষকগণ এখন  ঝাপসা দেখছেন। প্রতিদিন বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় পানি বেড়েই চলেছে।নতুন নতুন জায়গা প্লাবিত হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মাকরদি হাওর, রনিয়ার গ্রামের কাছে কিছু বোরো জমিতে ধান গাছের পাতা ঝলসে গেছে।একই অবস্থা দেখা গেছে ,উপজেলার পিরুজপুর -বদলপুর গ্রামের রাস্তার পাশের কিছু বোরোধানের জমিতে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রহুল আমিন জানান, চলতি বছর শুধু আজমিরীর গঞ্জেই ১৪ হাজার ৬০০ হেক্টর বোরো আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২৯ হেক্টর ধান তলিয়ে (নষ্ট) হয়ে গেছে।তিনি আরও জানান, আমরা উচ্চ পর্যায়ে জানাচ্ছি হাওরে জলাবদ্ধতার সমস্যা সমাধানের।   চলতি বছর তেমন কিছু করা যাচ্ছে না।তবে আর্থিক সাহায্য করা যায় কি না পর্যালোচনা করা হচ্ছে।


সূত্র: বার্তা আপডেট ২৪

Tags:
Blogger

মতামতঃ-
ক্রমানুসারে