![]() |
| তলিয়ে যাওয়া ধান ক্ষেত। কৃষকের মাথায় হাত - বার্তা আপডেট ২৪ |
আজমিরীগঞ্জ( হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি ।
কৃষকের নাম আলী নুর।বয়স ৩৭ বছর।পিতা মৃত গেদা মিয়া। গ্রাম আনন্দ পুর, আজমিরীগঞ্জ হবিগঞ্জ। তাঁর নিজের জমি নেই।অন্যের বাড়িতে কাজ করে জীবন নির্বাহ করেন।তাঁরা চার ভাই। সবাই পৃথক।সে সবার বড়।মা বাবা নেই।তাঁর সন্তান তিনজন। দুই ছেলে এক মেয়ে ।বড় ছেলের বয়স ১০বছর।মাদ্রাসায় পড়ে।আলী নূর প্রতি বছর আটমাসের জন্য চাকরি থাকেন বড় কৃষক বা মহাজনের বাড়িতে।পরে বছরের চারমাস কামলা দেন বা মাছ শিকার করেন।যদি আর্থীক টানাপুড়েন বেশি থাকে তাহলে আবারও চারমাসের জন্য কোন বড় কৃষক বা মহাজনের বাড়িতে চাকরী নেন।
চলতি বছর আট মাসের চাকরি আর নেননি।রোজকামলার কাজ করেছেন। আর দুই একর বোরোজমি ইজারা নিয়ে চাষ করেন। কিন্তু জমি এখন পানির নিচে।পুরোপুরি পাকার আগেই তলিয়ে গেছে। তাঁর জমি ছিল জোরবিল হাওরে।তিনি জানান,যে অবস্থায় তলিয়েছে তা আর ঘরে তোলা যাবে না।সব নষ্ট হয়ে গেছে।তা ছাড়া ধান পাকে ও নি।
প্রশ্ন করেছিলাম আলীনূরকে,আপনি ৫০,০০০ টাকা যে জমিতে খরচ করেছেন,টাকা কোত্থোকে যোগার করেছেন?বলেন,ঋন করেছি।
জমি কত টাকা দিয়ে ইজারা এনেছেন? তিনি বললেন,নয়হাজার।
ধানের চারা যে লাগিয়েছেন এর মুল্য বাবত কত লেগেছে?আলীনূর জানান,আট হাজার।
হালচাষে কত লেগেছে? উত্তরে বললেন,পাঁচ হাজার টাকা।
পানি সেচ কত?উত্তর, তিন হাজার।
প্রশ্ন ছিল,ধান চারা লাগাতে কত খরচ লেগেছে? জানালেন,সাত হাজার টাকা।
সার কত টাকা লেগেছে?? উত্তর,ইউরিয়া চার বস্তা ৫ হাজার ৬০০ টাকা আর একবস্তা ডিএফপি সারের দাম ১ হাজার ৫০ টাকা লেগেছে। পোকা দমনের বিষ খরচ, তিন হাজার।এভাবে প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আগাছা ধমন নিজেই করেছেন বলে জানান।
শেষের প্রশ্নটা ছিল, এখন কি ভাবে ঋনের টাকা শোধ করবেন? আক্ষেপ করে জানালেন,আবার ঋন করতে হবে।আবার কামলা খাটতে হবে।
জানা যায়, অনুরুপ অবস্থা এলাকার আনন্দপুর, শরীফপুর, জলসুখা, কাকাইলছেও, রসুলপুর গ্রামের বেশ কৃষকের।ফসল হারিয়ে তাঁরা দিশেহারা।আজমিরীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রহুল আমিন জানান, চলতি বছর আজমিরীগঞ্জে ১৪ হাজার ৬০০ হেক্টর বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ১২৯ হেক্টর বোরো ধানের জমি বৃষ্টির পানি ও জলাবদ্ধতার কারণে তলিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। তবে বাস্তবে আরো বেশি হবে।
বার্তা আপডেট ২৪

মতামতঃ-ক্রমানুসারে
Post a Comment