আরবি চান্দ্র বছরের একাদশ মাস জিলক্বদ মুসলমানদের জন্য এক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচিত। হজের তিন মাসের মধ্যে এটি দ্বিতীয় মাস এবং একই সঙ্গে হারাম মাসগুলোর একটি, যেখানে ইবাদত, সংযম ও আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব বিশেষভাবে আলোচিত হয়।
ইসলামের ইতিহাস ও শরিয়তের আলোকে জিলক্বদ মাসকে বিশ্রাম ও প্রস্তুতির সময় বলা হয়। রজব, শাবান, রমজান ও শাওয়াল মাসে ধারাবাহিক ইবাদতের পর এই মাস মুমিনের জন্য এক ধরনের মানসিক ও শারীরিক পুনরুজ্জীবনের সুযোগ এনে দেয়।
‘জুলকাআদাহ’ শব্দের অর্থ বসে থাকা বা স্থির হওয়া। অতীতে আরব সমাজে এই মাসে যুদ্ধবিগ্রহ বন্ধ থাকত এবং মানুষ বাণিজ্য ও কঠোর কর্মব্যস্ততা থেকে বিরত থাকত। ফলে এটি শান্তি ও সংযমের প্রতীক হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছে।
ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে জিলক্বদ মাসে নির্দিষ্ট কোনো ফরজ ইবাদত না থাকলেও নফল ইবাদতের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধির সুযোগ রয়েছে। এটি মূলত সামনে আসা জিলহজ ও মহররম মাসের ইবাদতের প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়।
হাদিসে সময়ের সঠিক ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অবসর সময়কে নেক আমলে কাজে লাগানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে, কারণ পরকালে মানুষ তার অপচয় করা সময়ের জন্যই সবচেয়ে বেশি অনুশোচনা করবে।
পবিত্র কোরআনেও সময়ের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। সূরা ইনশিরাহ ও সূরা আসরে আল্লাহ তাআলা অবসর সময়কে ইবাদতে ব্যয় করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং সতর্ক করেছেন সময়ের অপচয় সম্পর্কে।
এই মাসে নফল রোজা, নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত এবং দান-সদকার প্রতি বিশেষ উৎসাহ দেওয়া হয়। বিশেষ করে প্রতি সপ্তাহের সোম ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখা এবং আইয়ামে বিদের রোজা পালন করা উত্তম আমল হিসেবে বিবেচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জিলক্বদ মাসকে অবহেলা না করে পরিকল্পিতভাবে ইবাদতে সম্পৃক্ত হলে একজন মুমিন ধারাবাহিকভাবে দীর্ঘ সময় ইবাদতে নিয়োজিত থাকতে পারেন। এতে আত্মশুদ্ধির পাশাপাশি আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের সুযোগও বৃদ্ধি পায়।

মতামতঃ-ক্রমানুসারে
Post a Comment